টিকা সংকট ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই

দেশের স্বাস্থ্যখাতে হামের টিকা প্রদান এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে কোনো তদন্তের প্রয়োজন দেখছেন না প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের প্রশাসনিক গাফিলতি ও ভুল পরিকল্পনার কারণেই জাতি বর্তমানে এই ঘাটতির বোঝা বহন করছে।

রবিবার (২১ জুন) সচিবালয়ে সাম্প্রতিক ইউরোপ সফর পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আগের সরকারের আমলে অপারেশনাল প্ল্যান বাদ দিয়ে ডিপিপিতে (ডিপিপি) প্রকল্প স্থানান্তর করার সময় যে দূরদর্শিতার অভাব ছিল, তা আজ প্রমাণিত। তাদের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিক অর্থ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, অথচ নতুন কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতাই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

টিকা সংকটের বিষয়ে বিশেষ সহকারী জানান, আগের সরকারের গাফিলতির কারণেই ২০২৪-২৫ সালের টিকার রাউন্ড পুরোপুরি মিস হয়েছে। একইভাবে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার এই ঘাটতি পূরণে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ইউনিসেফের সাপ্লাই ডিভিশনের সদর দপ্তরে অবস্থান করছেন, যাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও টিকা দ্রুত আমদানি করে সংকট সমাধান করা যায়।

হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান ইমার্জেন্সি ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। এখন আক্রান্তরা ওই বয়সী কি না, তা যাচাই করা জরুরি। কারণ ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের নিয়মিত টিকার রাউন্ড এ মাসেই শুরু হওয়ার কথা। হামের সংক্রমণ ক্ষমতা কোভিডের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বেশি হওয়ায়, আক্রান্ত শিশুকে সঠিক আইসোলেশনে রাখা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



[টিবিএন৭১/আরএন]