১৬ ঘণ্টা পর চুয়াডাঙ্গায় সুবর্ণার দাফন সম্পন্ন

সুবর্ণা আক্তারের মৃত্যুর ১৬ ঘণ্টা পর ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার দাফন হওয়াকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তাতে বর্তমান সমাজে মানবিকতা, সামাজিক বিচার এবং মৃত্যুর পরও একজন মানুষকে ঘিরে বিদ্বেষ কতটা প্রবল হতে পারে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।  

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সুবর্ণা আক্তার (৩৪) মারা যান। জীবনের নানা টানাপোড়েন, ভাঙা সংসার, সামাজিক সমালোচনা আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মধ্যেই কেটেছে এই নারীর জীবন। পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে ঝিনাইদহে আত্মহত্যা করেন তিনি। এরপর তার মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়ায়।   
বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন সুবর্ণার মরদেহ দৌলতদিয়ায় বাড়িতে পৌঁছায়, তখন গ্রামের একাংশ তার দাফনে আপত্তি তোলে। তাদের অভিযোগ, সুবর্ণা টিকটকে ‘অশ্লীল’ নাচ-গান করতেন, তার চরিত্র ভালো ছিল না, পরিবারও নানা বিতর্কে জড়িত। কেউ বলেন, “এ কবরস্থানে তাকে দাফন করা যাবে না।’’ কেউ বলেন, “স্বামীর বাড়ি ঝিনাইদহে নিয়ে কবর দাও।’’ 

এ অবস্থায় সুবর্ণার পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। তার ভাই সুমন হোসেন বলেন, ‘‘এর আগে পরিবারের অন্য সদস্যের দাফনে কোনো সমস্যা হয়নি। শুধু সুবর্ণার ক্ষেত্রেই বাধা তৈরি করা হলো।’’ সেই বাধা সরিয়ে অবশেষে প্রশাসনের সহযোগিতায় কবরস্থান কমিটির নির্ধারিত সদস্য ফি ৭ হাজার ও অন্যান্য খরচ ১ হাজারসহ মোট ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুবর্ণার দাফন সম্পন্ন হয়।

কবরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম দাবি করেন, কমিটির পক্ষ থেকে সরাসরি নিষেধ করা হয়নি; তবে এলাকাবাসীর ‘ক্ষোভ’ ছিল। নিয়ম অনুযায়ী সদস্য না হলে ওই কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হয় না বলেও জানান তিনি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন- একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনযাপন, পেশা বা সামাজিক উপস্থিতি কি মৃত্যুর পর তার মৌলিক মর্যাদাকেও কেড়ে নিতে পারে? মৃত্যুর পর কি সব বিভেদ, সব অভিযোগ অন্তত কিছুক্ষণের জন্য থেমে যাওয়া উচিত নয়?


[টিবিএন৭১/আরএন]