সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েম

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এককভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ১২টি সিটির জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এ তালিকায় তরুণ নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কাল শুক্রবার জামায়াত আমির রংপুর সফর করবেন। আর এই সফরের মধ্য দিয়ে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করছে জামায়াত। জামায়াত আমির রংপুর সিটি মেয়রের নাম ঘোষণা করবেন বলে আশা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।  

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সাথীসনকেরালার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সাথীসন
জানা যায়, সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের অংশ হিসেবে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে চায় দলটি। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনগুলোতে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত।

দলীয় নেতাদের মতে, আগে কেবল রুকনদের মধ্য থেকেই মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় নির্বাচনেও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করা হতে পারে।

এবারের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা ছাত্রনেতাদের স্থানীয় রাজনীতিতে সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে বিবেচনা করা হচ্ছে।


জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রায় শেষ। 

তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দিয়েই প্রার্থী নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে, তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল এককভাবেই এগোতে চায়।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় শাখাগুলো থেকে তিন সদস্যের প্যানেল পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকটি সিটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করতে বলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছে। তিনি একসময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, এখন নারায়ণগঞ্জ সিটি আমির।

গাজীপুরে আলোচনায় রয়েছেন তুরস্কভিত্তিক এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাফিজুর রহমান। তিনি ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা এবং জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াতের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারনায় অংশ নেন।

বরগুনাকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: চিফ হুইপবরগুনাকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: চিফ হুইপ
চট্টগ্রামে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালীর নাম।

রংপুরে বিবেচনায় আছেন মহানগর আমির এ টি এম আজম খান। সিলেট সিটি নির্বাচনে মাওলানা হাবিবুর রহমান। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে দ্বীন মুহাম্মদ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণে আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর ভিপি, শিবিরের কন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে বেশি পরিচিত।

তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলেও জামায়াত নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় পর্যন্ত তার ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাবে এবং সাংগঠনিকভাবে প্রার্থী হতে কোনো বাধা থাকবে না।

দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, ঢাকা দক্ষিণে জোটের পক্ষ থেকে এনসিপির একজন নেতাকে সমর্থনের প্রস্তাব এলেও জামায়াতের ভেতরে তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। নেতাদের একটি অংশ মনে করছে, বিতর্কিত ইস্যুতে জড়িত কাউকে সমর্থন দিলে রাজনৈতিক দায় দলটির ওপর পড়তে পারে।

কেন একক নির্বাচনী কৌশল?

জামায়াতের নেতাদের ভাষ্য, অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থেকেও আলাদা প্রতীকে নির্বাচন করে তারা তুলনামূলক ভালো ফল পেয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার স্থানীয় নির্বাচনে স্বাধীনভাবে মাঠে নামার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সারা দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করেছে জামায়াত। অঞ্চলভিত্তিক নেতারা এখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করছেন।

দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, অর্ধেকের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ এলাকায় প্রার্থী নির্ধারণ হয়ে গেছে। বাকি এলাকাগুলোতেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির দাবি, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বদলে প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধানের আলোকে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।



[টিবিএন৭১/আরএন]