ইসরায়েলি প্রভাবে অন্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র অযৌক্তিক দাবি তুলছে: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে নিজেদের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘উদার ও যুক্তিসঙ্গত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরান। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে দেশটি বলেছে, ইসরায়েলি প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ওয়াশিংটন ‘অযৌক্তিক দাবি’ তুলে ধরছে। খবর প্রেস টিভির।

সোমবার (১১ মে) তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব কথা বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া এলো।

বাঘাই বলেন, “আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইনি। আমরা কেবল ইরানের বৈধ অধিকার দাবি করেছি।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন- অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধের দাবি করা, ইরানি জাহাজে সামুদ্রিক জলদস্যুতা বন্ধ করা এবং ইরানি জনগণের যে সম্পদ বছরের পর বছর ধরে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে তা মুক্ত করার দাবি জানানো কি অযৌক্তিক?

“হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আমাদের প্রস্তাব কি অযৌক্তিক? পুরো অঞ্চল জুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা কি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা?” বাঘাই পাল্টা প্রশ্ন করেন।

তিনি আরো বলেন, “পরিকল্পনায় আমরা যা যা প্রস্তাব করেছি তার সবই যুক্তিসঙ্গত ও উদার ছিল। এটি এই অঞ্চল ও বিশ্বের মঙ্গলের জন্যই করা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন পক্ষ ইসরায়েলি মানসিকতার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অযৌক্তিক দাবিতে অনড় রয়েছে। বাঘাই আরো বলেন, ইরানের প্রতিটি পয়েন্ট নিয়ে আলোচনার কথা ছিল, কিন্তু মার্কিন পক্ষ এখন পর্যন্ত সদিচ্ছার সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের এই প্রস্তাব নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

ইরান গতকাল রবিবার (১০ মে) মার্কিন পক্ষের প্রস্তাবের জবাবে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব জমা দিয়েছে। তেহরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, এই পর্যায়ে আলোচনা শুধুমাত্র অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধের ওপর আলোকপাত করবে।

ইরান এই অঞ্চলে একটি দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে প্রমাণিত

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাঘাই বলেন, ইরান এই অঞ্চলে একটি দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে এবং একই সঙ্গে ইরান যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদের বিরোধী।

তিনি বলেন, “ইরানের রেকর্ড দেখলেই সব স্পষ্ট হয়ে যায়। আমরা কি সেনা মোতায়েন করেছি? আমরা কি পশ্চিম গোলার্ধের দেশগুলোকে ভয় দেখাচ্ছি? আলোচনার সময় আমরা কি দুবার হত্যাকাণ্ড চালিয়েছি?”

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিজেই সহিংসতার একটি চক্র তৈরির উদাহরণ।

কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ইরান

ট্রাম্পের চীন সফর প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, ট্রাম্পের এই সফর একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয় ও এটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আমরা চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন সফর করেছেন। চীনারা আমাদের অবস্থান সম্পর্কে অবগত।” 

বাঘাইয়ের মতে, চীন জানে যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের একটি বিশ্বব্যাপী প্রক্রিয়ার অংশ।

তিনি বলেন, “পারস্য উপসাগর ও পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা আমাদের মতো চীনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরো যোগ করেন, চীনের বন্ধুরা অবশ্যই জানেন কীভাবে সুযোগ ব্যবহার করে এই আইনহীনতার বিরুদ্ধে সতর্ক করতে হয়।

ইউরোপের উচিত নয় মার্কিন-ইসরায়েলি প্ররোচনায় পা দেওয়া

হরমুজ প্রণালিতে কিছু ইউরোপীয় দেশের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে, ইউরোপের উচিত হবে না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের প্ররোচনায় পড়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো সংকটে জড়িয়ে পড়া, যা থেকে তাদের পাওয়ার কিছুই নেই।”

তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত নয় মার্কিন চাপের মুখে পড়ে এমন কোনো পদক্ষেপের অংশ হওয়া যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার পরিপন্থি। তার মতে, যারা আন্তর্জাতিক শান্তিতে বিশ্বাসী, তাদের উচিত সেই পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যারা হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাহত করেছে।