রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
এ দিকে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে স্থানীয় জামায়াতের দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করতে জেলা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিলাইদহে তিন দিনের অনুষ্ঠান ঘিরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিলি করা হয়। অন্যদিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের তরফেও অনুষ্ঠান সূচি সাজিয়ে আরেকটি আমন্ত্রণপত্র ছাপানো হয়। দুটির কোনোটিতেই কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের নাম অতিথির তালিকায় নেই।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সুজা উদ্দিন বলেন, “আমরা প্রচলিতভাবে দেখে আসছি, স্থানীয় সংসদ সদস্য তো বটেই, এই ধরনের অনুষ্ঠানে সদর আসনের সংসদ সদস্যকেও দাওয়াত দেওয়া হয়। সেখানে সদর আসন ও স্থানীয় এলাকায় নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে দাওয়াত না দিয়ে তাদের মর্যাদাহানির পাশাপাশি যারা দুই সংসদ সদস্যকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, সেই জনগণকে অসম্মান করা হয়েছে।”
ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করতে জেলা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এই জামায়াত নেতা।
কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকা কুমারখালীর শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হচ্ছে, অথচ আমাকে দাওয়াত করা হবে না তা হতে পারে না। এটি চরম অন্যায়, অমানবিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ। আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আমি ৭১ বিধিতে এই অন্যায় আচরণের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিকার চাইব।’’
বিষয়টি দলীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলে, তাও নেওয়া হবে বলে জানান আফজাল হোসেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কিংবা জেলা প্রশাসনের তরফে আমন্ত্রণপত্র ছাপানোর আগে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ যোগাযোগ করেছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আফজাল হোসেন বলেন, “আমার সঙ্গে দাওয়াতপত্র বিষয়ে কেউ কোনো কথাই বলেনি।”
অন্যদিকে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘‘রবীন্দ্রজয়ন্তীর কার্ড মূলত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ছাপানো হয়েছে। সেটি অনুসরণেই জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিথিসহ অনুষ্ঠানসূচি সংবলিত আরেকটি দাওয়াতপত্র ছাপানো হয়েছে।”
[টিবিএন৭১/আরএন]