স্কোর: বাংলাদেশ ১০১/২ (মধ্যাহ্ন বিরতি)
প্রথম টেস্টের প্রথম সেশন শেষে দুই দলই ভালো অবস্থানে আছে।
শুক্রবার প্রথম দিনের সকালের সেশনটি ছিল পাকিস্তানের। দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে পাকিস্তান এগিয়ে গিয়েছিল দিনের শুরুতেই। বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে দ্বিতীয় ঘণ্টায়। নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুমিনুল হক দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ে দলের হাল ধরেন।
মনোযোগী ব্যাটিংয়ে তারা এগিয়ে নিচ্ছেন স্কোরবোর্ড। এরই মধ্যে তাদের জুটির রান পঞ্চাশ পেরিয়েছে (৭০)। বাংলাদেশের রানও সেঞ্চুরি পেরিয়েছে।
মুমিনুল-শান্তর জুটির পঞ্চাশ, একশ পেরিয়ে বাংলাদেশ
৩১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর মুমিনল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত দলের হাল ধরেন। দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়েন তারা। সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন দলের রান। নিয়মিত বিরতিতে বাউন্ডারি মারছেন তারা। এছাড়া সিঙ্গেলস-ডাবলস আসছে নিয়মিত। তাতে তাদের জুটির রান পঞ্চাশ পেরিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের দলীয় রানও একশ ছাড়িয়েছে।
পঞ্চাশ পেরিয়ে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের দলীয় রান পঞ্চাশ পেরিয়েছে। ক্রিজে ব্যাটিংয়ে হাল ধরছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। ১৭তম ওভারে বাংলাদেশের রান ৫০ স্পর্শ করে।
প্রথম বলে সাফল্য হাসান আলীর
প্রথমবার বোলিং পরিবর্তন করে সাফল্যের দেখা পেল পাকিস্তান। শুরুর ১০ ওভার করেছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস। ১১তম ওভারে হাসান আলীর হাতে বল তুলে দেন শান মাসুদ।
প্রথম বলেই সাফল্য পেয়ে যান ডানহাতি পেসার। তার প্যাডের ওপরে সুইং ডেলিভারীতে ব্যাট তাক করে দেন সাদমান। ১৩ রান করে দ্বিতীয় স্লিপে সালমান আগার হাতে ক্যাচ দেন সাদমান। বাংলাদেশ হারাল দ্বিতীয় উইকেট।
উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত।
৪ রানে জীবন পেয়ে ৮ করে ফিরলেন মাহমুদুল
নিজের ইনিংস বড় করতে পারলেন না মাহমুদুল হাসান জয়। শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে ইনিংসের শুরুতে ৪ রানে জীবন পেয়েছিলেন মাহমুদুল। স্লিপে তার ক্যাচ ছেড়েছিলেন সালমান।
এক ওভার পর ফিরে শাহীন নিজের প্রাপ্য উইকেট বুঝে নেন মাহমুদুলকে ফিরিয়ে। তার অ্যাঙ্গেল করা আউটসুইং ডেলিভারীতে ব্যাট সরাতে পারেননি ৮ রান করা মাহমুদুল। বাকি কাজটা সারেন উইকেট কিপার রিজওয়ান।
দলীয় ১৮ রানে বাংলাদেশ হারাল প্রথম উইকেট। সাদমানের নতুন সঙ্গী মুমিনুল হক।
জাতীয় সংগীত গাইলেন জোহাদ
জনপ্রিয় রক ব্যান্ড নেমিসিসের ভোকাল জোহাদ রেজা চৌধুরী খেলা শুরুর আগে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গান। এর আগে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীতের অডিও বাজানো হয়।
টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল পাকিস্তান
ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ। টস জিতে পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলের সিরিজের প্রথম ম্যাচ সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে।
সিরিজটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। চলমান চতুর্থ চক্রে দুই টেস্ট খেলে একটিও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। একটি ড্র করেছে। একটি হেরেছে। পাকিস্তানও খেলেছে দুই টেস্ট। পাকিস্তান অবশ্য একটি জিতেছে। একটি ড্র করেছে।
গত চক্রে ১২ টেস্টের মধ্যে ৪টিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলে সপ্তম স্থান পেয়েছিল বাংলাদেশ। চার জয়ের মধ্যে ৩টিই ছিল বিদেশের মাটিতে। এরমধ্যে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজও ছিল। ঐ সফরের আগে ১২টি হার ও একটি ড্র’র পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী।
পাকিস্তান একাদশ: আজান আওয়াইস, ইমাম-উল-হক, আব্দুল্লাহ ফাজাল, শান মাসুদ, সাউদ শাকিল, মোহাম্মাদ রিজওয়ান, লমান আলি আগা, শাহিন শাহ আফ্রিদি, নোমান আলি, হাসান আলি ও মোহাম্মদ আব্বাস।
পাকিস্তান দলে দুজনের অভিষেক হয়েছে। আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফাজাল পেয়েছেন টেস্ট ক্যাপ।
অধিনায়করা যা ভাবছেন
নাজমুল হোসেন শান্ত, বাংলাদেশ
‘‘গত দুই বছর আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আগেরবার আমরা সাত নম্বারে শেষ করেছি। আমার মনে হয় এটা ভালো একটা অর্জন। আস্তে আস্তে এই জায়গাটাতে উন্নতি হচ্ছে, যেটা এর আগের চক্রগুলোতে হয়নি। এ বছর লক্ষ্য থাকবে, আর একটু যদি ভালো পারফর্ম করতে পারি, চার-পাঁচ এরকমই যদি শেষ করতে পারি, খুবই ভালো লাগবে।’’
শান মাসুদ, পাকিস্তান
‘‘কোনো সন্দেহ নেই যে, পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। কিন্তু আমি দু’দলের বোলিং আক্রমণের তুলনা করতে চাই না। আমি মনে করি, দু’দলেরই শক্তিশালী বোলিং লাইন-আপ আছে। আমরা এই সিরিজ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ফোকস করছি। আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এই সিরিজে দল হিসেবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই।’’
হেড টু হেড
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট খেলা শুরু ২০০২ সাল থেকে। অথচ ২০২৪ এর আগ পর্যন্ত ১৩ টেস্টে বাংলাদেশ কোনো জয় তো পায়নি, ড্র করতে পেরেছিল মাত্র একটি। পরাজয়ের মিছিল লেগেই ছিল। অথচ সেই দলটাই সময়ের ব্যবধানে এখন দারুণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।সব মিলিয়ে ১৫ টেস্টে ১২টিতেই হার বাংলাদেশের। ২টিতে জয়ের সঙ্গে একটিতে ড্র করেছে দল
[টিবিএন৭১/আরএন]