বিশ্বখ্যাত দার্শনিক সিগমুন্ড ফ্রয়েড মনঃসমীক্ষণ অনুধ্যানে মানব মনের তিনটি স্তর সজ্ঞান, অর্ধ-সজ্ঞান ও নির্জ্ঞান স্তরের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, সজ্ঞান বা চেতন স্তরে ব্যক্তি মানুষ চিন্তাভাবনা ও ধ্যানধারণা সম্পর্কে পরিপূর্ণ সচেতন থাকে। এই স্তরে নিরন্তর কর্মশীল থাকে অন্তরের অগোচরে অবদমিত কামনা-বাসনা ও ইচ্ছার অফুরন্ত নির্যাস। দ্বিতীয় অর্ধজ্ঞান বা অবচেতন স্তরে নানা ঘটনা, চিন্তাচেতনা ইত্যাদি কারণে-আকারণে সাময়িক বিস্মৃত হলেও, কৌশল অবলম্বনে সজ্ঞান স্তরে তা ফিরিয়ে আনা যায়। তৃতীয় স্তরের ক্ষেত্রে, প্রেষণা ও নানামুখী প্রেরণা সম্পর্কে মানব হৃদয় সজাগ থাকে না। এর ফলে লুকায়িত ইচ্ছা-আগ্রহ-স্মরণ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয় না। মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড ব্যক্তিত্ব কাঠামোর উন্নয়নে কিছু মৌল উপাদান এবং অধিসত্তা বিশ্লেষণে মানুষের সহজাত জৈবিক প্রবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করেছেন। আদিম সত্তার সঙ্গে পরিবেশের দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া বিবেক বা বাস্তবতাবোধ, আদর্শবোধ তথা শুভ-অশুভ, ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, সুন্দর-অসুন্দরের বিভাজিত যুক্তি-জ্ঞান, প্রচলিত মূল্যবোধ ও অনুসৃত পরিশুদ্ধ বিবেকের সমন্বয় ঘটায়। সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষ শুধু সামাজিক মূল্যবোধ লালন-পালন করে না, প্রকৃষ্ট পরিচর্যায় বিপরীতপন্থি কর্মযজ্ঞে স্বকীয় সত্তাকেও বিলীন করতে চায় না। এই স্বাভাবিক ও সাবলীল সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াকে অবজ্ঞা করা হলেই, বিচ্যুত আচরণের মনোবৃত্তি বৈপরীত্য সচলতায় সমাজকে কলুষিত করে। দেশবাসী সম্যক অবগত আছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে করোনা অতিমারির চেয়েও ভয়াবহ নতুন বিপর্যয়ের বিপদসঙ্কুল প্রত্যয় হচ্ছে ‘কিশোর অপরাধ বা কিশোর গ্যাং উপ-সংস্কৃতি’।
দেশের নগর-শহর-জেলা-উপজেলাসহ প্রান্তিক অঞ্চলে এই অপসংস্কৃতির বিকাশ ও বিস্তার ইতিমধ্যে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, গবেষণার ফলাফল ও জনশ্রুতি অনুসারে, পারিবারিক-সামাজিক-ধর্মীয় অনুশাসনের অপচর্চা, অপরাজনীতির কদর্য প্রভাব বা আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা, অনৈতিক-অবৈধ পন্থায় বিভিন্ন দল-প্রতিষ্ঠানে কতিপয় অর্থ ও ক্ষমতালিপ্সু ব্যক্তিদের পদ-পদায়ন, সন্ত্রাসী-মাদকসেবী-দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর কুৎসিত প্রভাবে কিশোর গ্যাং অপসংস্কৃতির প্রসারমানতা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দরিদ্রতা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কর্মবঞ্চিত-নিপীড়িত-নিগৃহীত ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ-সম্প্রদায়-বস্তিবাসীসহ নিম্ন-উচ্চবিত্ত অনেক সন্তান অবলীলায় এর শিকারে পরিণত হচ্ছে। একদিকে রাতারাতি বা স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনৈতিক প্রাচুর্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তির ব্যাপক দূরত্বের সাংঘর্ষিক মিথস্ক্রিয়া এই অপসংস্কৃতিকে প্রগাঢ় গতিশীল করছে। সর্বোচ্চ উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে, নিম্নতম পর্যায়ের শিক্ষা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মেধাশূন্য, অযোগ্য-অপদার্থ ব্যক্তিদের নিকৃষ্ট-জঘন্য অপকৌশল অবলম্বনে লবিং-তদবির-কথিত সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে, পদ-পদবি-পদক দখলের ঘৃণ্য দৃশ্যাদৃশ্যে, কোমলমতি কিশোর-তরুণদের অধিকাংশ হতাশার গহ্বরে নিপতিত হচ্ছে। নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টিতে এসব অবুঝ, অনেকটা নির্বোধ শিশু-কিশোরদের ব্যবহারে ব্যতিব্যস্ত কথিত ‘বড় ভাই’ নামধারীরা কোনো না কোনোভাবে, বিভিন্ন দুশ্চরিত্র ব্যক্তিদের অশুভ পৃষ্ঠপোষকতা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। এদের ধনসম্পদ ও বিত্ত-বৈভবের জঘন্য উড্ডীন প্রক্রিয়ায় কিশোরদের অসহায় অবলোকন ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ যারপরনাই নেতিবাচক উন্মত্ততায় আচ্ছাদিত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, রাজধানীসহ সারা দেশে আড়াইশ’র বেশি কিশোর গ্যাংয়ে অর্ধলাখের বেশি সদস্য রয়েছে। তাদের নেতৃত্বে থাকা গডফাদারদের সংখ্যাও অর্ধশতাধিক। ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, মাদকবাণিজ্য, জমিদখল ও ইভটিজিংসহ নানা অপরাধে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হলেও, গডফাদাররা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তাহলে এর রাশ কে টানবে?
২০২৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরিত গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে সারা দেশে ২৩৭-এর মতো কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য উপস্থাপিত হয়েছিল। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতেই ছিল ১৮৪টির বেশি। উক্ত প্রতিবেদনে সারা দেশে বিদ্যমান কিশোর গ্যাংয়ের ইন্ধনে প্রায় অর্ধশতাধিক গডফাদারের সংখ্যা প্রকাশ পেয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতায় ঢাকার পরেই আছে চট্টগ্রামের অবস্থান। ঢাকা মহানগরীতে ১২৭টি দলের সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৩৮২ জন। চট্টগ্রাম মহানগরে ৫৭টি গ্রুপে সদস্য সংখ্যা ৩১৬ জন। খুলনা মহানগরে ৫টি গ্রুপে সদস্য রয়েছে ৩৫ জন। গাজীপুরে ৫টি গ্রুপে সদস্য সংখ্যা ৬৯ জন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভাষ্য অনুসারে, রাজধানীতে ১১৮টি কিশোর গ্যাং দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরেই সক্রিয় ১৬টি। তাছাড়া থানা হিসাবে পল্লবীতে ১৪টি, দারুস সালাম ও বনানীতে ৬টি করে কিশোর গ্যাং রয়েছে। ডিএমপির বিভাগওয়ারী হিসাবে মিরপুর বিভাগে ৩২টি, তেজগাঁও বিভাগে ২৬টি এবং রমনা বিভাগে ৬টি গ্যাং সক্রিয়। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা যায়, নগরীর জামালখান, গণিবেকারি, চকবাজার, হালিশহর, মুরাদপুর, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। ‘ডেঞ্জার’, ‘ফোর জিরো সেভেন’, ‘পাইথান’, ‘বিগু’, ‘এমবিএস’, ‘কেবি’, ‘এনএস’ ও ‘ট্রিপল নাইন’ নামে পরিচিত এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে এসব গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ৩০ থেকে ১৫০ জন। র্যাব সূত্রানুসারে, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাহিনীটি কর্তৃক সারা দেশে গ্রেপ্তারকৃত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৯৭৭ জন। হয়তো অনেকের জানা, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই অপসংস্কৃতির উৎসমূলে রয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্রুত সামাজিক পরিবর্তন ও বিপুল জনসংখ্যা বৃদ্ধি। সাধারণত নানামুখী জীবন নির্বাহের ধরন, কর্মসংস্থান, অপরিকল্পিত নগরায়ণ শিল্পায়নের ফলে সক্রিয় হয় গ্রাম থেকে শহরমুখী গণস্থানান্তর, চরম বৈষম্যের ব্যাপ্তির নরোত্তম প্রসারণ। বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি, দ্রুততর সময়ের মধ্যে ক্ষমতা-অর্থ সম্পদ-বিত্তশালী হওয়ার প্রলোভনের হাতছানি রয়েছে। এ কারণেই উন্নত বিশ্বের প্রায় প্রত্যেক নগরে, ১৮৭০ সালে স্থায়ী পুলিশ বিভাগ স্থাপিত হয়। বিংশ শতাব্দীর প্রাথমিক পর্যায়ে কিশোর অপরাধ বিকাশ প্রতিরোধে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পুলিশ বিভাগে বিশেষায়িত শাখা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ সময় মহিলা অফিসারদের এসব কর্মকা- তদারকির ভার দেওয়া হয়। ১৯২৪ সালে প্রায় বৃহৎ নগরসমূহে ‘কিশোর বু্যুরো’ স্থাপিত হয়। ১৯৩০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট ও সংশ্লিষ্ট প্রচ- বিধ্বস্ত অর্থনীতি এই কিশোর অপরাধকে গ্যাং-ভিত্তিক উপ-সংস্কৃতিতে পরিণত করে। আমরা হয়তো এও জানি যে, উনিশ শতকের মাঝামাঝি যুক্তরাজ্যে কিশোর গ্যাংগুলো ভয়ানক সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে। ১৮৯০ সালের দিকে কিছু প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি এদের কর্মকা-ে অতিষ্ঠ জনগণের সুরক্ষায় উদ্ভাবনী এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তারই ফলে সৃষ্ট বিশ্বখ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবের প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসী তরুণদের খেলা ও মননশীল বিনোদনের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করার লক্ষ্যে ফুটবল খেলা অধিকতর স্বল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। উল্লিখিত এই ক্লাব দুটির মাধ্যমে কিশোর-তরুণদের বিকৃত মনোভাবকে পাল্টে দিয়ে সৃজনশীল কর্মকা-ে প্রচ-ভাবে উৎসাহিত করা হয়। ২০১৮ সালের ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশে উত্তরা ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনানের নৃশংস হত্যাকা-ের জন্য দায়ী ‘নাইন স্টার’ ও ‘ডিসকো বয়েজ’র সংঘাতের বিষয়টি জনগণের বিস্মৃত হওয়ার কথা নয়। এসব অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে কালক্রমে যুক্ত হয়েছে ‘বিগবস’, ‘কাশ্মীরি গ্রুপ’, ‘টিকটক অ্যাপ’, ‘ফার্স্ট হিটার বস’, ‘এফবিএএইচ’,‘মোল্লা রাব্বি’, ‘স্টার বন্ড’ নামের বিভিন্ন কিশোর গ্যাং। অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রুপে রয়েছে ভিন্ন পোশাক-পরিচ্ছদ, চুল কাটার ধরন ও রঙের ভিন্নমুখী ব্যবহার।
বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিত পর্যালোচনায় দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধোত্তর ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাবে ক্রমবর্ধমান অসমতা ও বৈষম্য সমাজে ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। ফলে ১৯৫৫ সাল থেকে বিপুল সংখ্যক কিশোর অপরাধী এবং গ্যাংয়ের উত্থান ঘটে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অধিকতর অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা সহজে প্রাপ্তির কারণে, কিশোররা বেপরোয়াভাবে তাদের স্বাধীন সত্তার অপব্যবহারে লিপ্ত হয়। সম্ভবত ‘টেডস’ যুদ্ধোত্তর বিশ্বে প্রথম উপ-সংস্কৃতি। পরে ‘রক এন রোল’ জাতীয় বহুমাত্রিক কদাচার কিশোর গ্যাং উপ-সংস্কৃতির অশুভ অগ্রসরমানতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিশোরদের অধিকার যথার্থ সংজ্ঞায়িত করে এসব নষ্টামি থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক আইন-কনভেনশন-গাইডলাইন তৈরি করে। ১৯৮৯ সালে ‘শিশু অধিকার সনদ (সিআরসি)’ প্রণয়ন ও ‘আর্টিকেল ২’র ব্যাখ্যায় ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-ভাষা-জাতীয়তা-রাজনৈতিক মতামত, নৃজাতিক-সামাজিক পরিচিতি, সম্পদ, প্রতিবন্ধী, জন্ম এবং অন্য সব মর্যাদার বিষয়টি আমলে নিয়ে কিশোর-তরুণ ও পিতামাতা-অভিভাবকদের দায়িত্ব-কর্তব্য-অধিকার বর্ণিত হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৪ সালে প্রণীত শিশু-কিশোরদের জন্য জাতীয় শিশু আইন আধুনিক ও যুগোপযোগী করে ২০১৩ সালে নতুন শিশু আইনে পরিণত হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কিশোরদের মনন ও সৃজনশীল কর্মকা-ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মেধা ও প্রতিভা বিকাশে শিশু একাডেমি-বাংলাদেশ স্কাউটস, গণিত অলিম্পিয়াড, রোবটিকস-প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি আয়োজনে সংগীত-চিত্রাঙ্কন-আবৃত্তি-লেখালেখি-নাটক ইত্যাদিরও প্রয়োগিক অনুশীলন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্রে এসব প্রগতিসমৃদ্ধ ক্রিয়াশীল কর্মোদ্যোগ গ্রহণ শিশু-কিশোরদের অপরাধ-নষ্টামি পরিহারে অবশ্যই সহায়ক হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বড়মাপের নগর ও শহরে দ্রুত সংগঠিত হওয়া কিশোর গ্যাং সদস্যদের, অপরাধ প্রবৃত্তিকে নিধনের জন্য সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য। আবশ্যক মনোযোগ হবে, যাতে অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে এসে অধিকতর বেপরোয়া ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে না পারে। বিভিন্ন সংশোধনাগার, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, পরিবার-সমাজ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবার শিশু-কিশোরদের দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তন উপযোগী আচরণগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অবশ্যম্ভাবী। বস্তু-সত্যনিষ্ঠ মূল্যায়নে গভীর অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি, এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকল্পে যথার্থ অর্থে কার্যকর উদ্যোগ হবে। কিশোর অপরাধ নির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি-পেশাকে বিবেচনায় না এনে, সামষ্টিক আর্থ-সামাজিক উন্নত ভবিষ্যৎ রচনায় শিশু-কিশোরদের সম্মুখে ‘জাতীয় আদর্শ’র উন্মোচন একান্তই জরুরি। দেশপ্রেমিক-সৎ-যোগ্য-মেধাবী-নীতি নৈতিকতায় ঋদ্ধ-ত্যাগী ব্যক্তিত্ব-পেশাজীবী-রাজনীতিকদের সমৃদ্ধ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই এর রাশ টানতে পারে। নতুন উপমার প্রত্যাশিত বিষয়বস্তু তৈরির মধ্যেই, অপরাধ প্রবণতা সংহারে প্রযোজ্য উপকরণ অবশ্যই প্রাসঙ্গিক।
[টিবিএন৭১/আরএন]