হাওড়ে এ এক অন্যরকম লড়াই কৃষকের

মৌলভীবাজারের হাওড়ের জলাবদ্ধতা পুরোটাই অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে হাওড় পাড়ের কৃষকের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে মুশলধারায় বৃষ্টিপাত মড়ার উপর খাঁড়ার গা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে হাওড়পাড়ে গেলে দেখা গেছে, হাওড় পাড়ে কখনো রোদ কখনো মুশল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এক কথায় রোদ বৃষ্টির খেলায় মেতে উঠেছে হাওড় পাড়। তবে একটু রোদের দেখা পেলেই কৃষকেরা ভিজে ধান শুকাতে তৎপর হয়ে উঠছেন। কেউ বা আবার যন্ত্রের মাধ্যমে জড়ো করা একরমের পচা ধান মাড়াই করতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন। ধান নিয়ে নানা কর্মযজ্ঞে এভাবেই হাওড়পাড়ে সারাদিন কাটছে কৃষক কৃষাণীদের। 

কাওয়াদিঘি হাওড় পাড়ের  বিরইমাবাদ গ্রামের কৃষক আবদুল মজিদ। কাঁদোকাঁদো কণ্ঠে সময় সংবাদকে জানালেন, বছরের একটি মাত্র ফসল এ বোরো। এ ফসল দিয়েই সারা বছর চলতে হয়। এভাবে জলাবদ্ধতার পানি সব খেয়ে নিবে তা তিনি কখনো ভাবতে পারেননি। তাইতো রোদবৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাওড় পাড়ে পড়ে রয়েছেন, যদি কিছু পরিমাণ ধান বাঁচানো যায়। তার মতো একই অবস্থার শিকার শতশত হাওড়ের কৃষক। কষ্টের ফসল এভাবে চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই নিরুপায় হয়ে পড়েছেন।

এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজারে ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকদিন  ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। এতে বন্যার পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। এ খবরে আরও শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন কৃষক। একতো বৈরী আবহাওয়া তারওপর ধান কাটার শ্রমিক সংকট। তারপর আবারও বন্যার আশঙ্কা। এতে এ অঞ্চলের কৃষকরা বলছেন, তাদের আর বেঁচে থাকার অবস্থা থাকবে না।

অপরদিকে হাইলহাওড়, কাঞ্জাইর হাওড়সহ অন্যসব হাওড়ের পানি খুবই ধীরগতিতে গত দুদিন কমতে থাকে। তবে আবারও ভারি বৃষ্টিপাত হাওড়ে পানি বাড়ছে বলে স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন। এছাড়াও মনুনদী প্রকল্পভুক্ত কাওয়াদিঘি হাওড়ের পানি গতকাল দুপুর থেকে বাড়ছে বলে কৃষকেরা বলছেন। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো খালেদ বিন অলীদ জানান, কাওয়াদিঘি হাওড়ের পানি নিষ্কাশনে কাশেমপুর পাম্পহাউসের আটটি পাম্পই সচল রয়েছে। 

তিনি জানান, বৃষ্টি ও পাহাড়ি একাধিক ছড়াপানি এসে হাওড়ে ঢুকতে থাকায় হাওড়ের পানি স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। তবে হাওড়রক্ষা সংগ্রাম কমিটির একাধিক নেতা ও স্থানীয় কৃষকের অভিযোগ হাওড়ে মাছ চাষে সহযোগিতা করতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে না। এতে কাওয়াদিঘি হাওড়ে জলাবদ্ধতা প্রকটভাবে দেখা দিচ্ছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো জালাল উদ্দিন জানান, এবারের জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ৪৩২ হেক্টর বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে কৃষকেরা এরচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা আর ক্ষয়ক্ষতির কথা বলছেন। কৃষি বিভাগ জানান, পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে। তারপর সরকারের সিদ্ধান্তমতে ক্ষতি পূরণ দেয়ার কথা রয়েছে।



[টিবিএন৭১/আরএন]