এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ পায়নি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৯টি সুপারিশ করেছে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। এরমধ্যে ছয়টি সুপারিশকে অগ্রাধিকার দেওয়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থিতার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন আগামীতে ঘটবে বলে প্রত্যাশা করেছে ইইউ। এসব সুপারিশ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস।
গত বছরের শেষ দিক থেকে ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২২৩ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ছিল। এতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে অভিযোগ, তা সঠিক নয়। ইসির কার্যকর ভূমিকায় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ ছিল। আমরা আমাদের কাজ আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই করেছি।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ভোটের কাস্টিং খুব ভালো। পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টিও প্রসংশনীয়। আগামী সংসদ নির্বাচন আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করি।
এ সময় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে ডিজিটাল মাধ্যমে নারী হেনস্তা রোধ, এক তৃতীয়ংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও প্রার্থীদের খরচের হিসাব-নিকাশ নিয়ে অডিট এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য সুবিধা বাড়ানোসহ ১৯ প্রস্তবনা তুলে ধরেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘমেয়াদি ৫৬ পর্যবেক্ষক, স্বল্পমেয়াদি ৯০ জনসহ মোট ২২৩ জন ইইউ পর্যবেক্ষক কাজ করেন। সংসদ নির্বাচন নিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় ইইউ।
এর আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন নিয়ে মিশনটি তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
১২ ফেব্রুয়ারি অন্তবর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে। বিরোধী দলে বসে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্ন তুলে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল।
[টিবিএন৭১/আরএন]