পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগ, ফের উত্তেজনা

পূর্ব আফগান প্রদেশ কুনারে পাকিস্তানি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ৭৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কুনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও একজন অধ্যাপকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তালেবান সরকারের ভাষ্যমতে, আহতদের মধ্যে ৩০ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
 
তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকায় হামলার কথা অস্বীকার করে প্রতিবেদনগুলো ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়।
 
আফগান রাজধানী কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলার কয়েক সপ্তাহ পর কুনার হামলার খবরটি সামনে এলো। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ২৬৯ জন নিহত হয়েছেন বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে।
 
তালেবান প্রশাসন বলছে, কুনার প্রদেশে হামলায় মর্টার ও রকেট ছোড়া হয়েছে। অন্যদিকে অন্যান্য সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, এ হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল যুদ্ধবিমান ও ড্রোন।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুনার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক বিবিসিকে জানিয়েছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
 
আসাদাবাদ শহরের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মতিউল্লাহ শাহাব বিবিসিকে জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার স্থান থেকে এক কিলোমিটার দূরে ছিলেন এবং দুপুর ২টার (সোমবার, ২৭ এপ্রিল) দিকে বোমাবর্ষণের শব্দ শুনতে পান। 
 
তিনি জানান, হামলার সময় তিনি লোকজনকে শহরের কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন এবং এমন বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকের কথা জানেন, আহত হওয়ায় যাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
 
আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির ভবন ও আশপাশের এলাকা হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
 
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, চীনের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের শুরুতে উরুমকিতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় ছিল। এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন, আলোচনা যাতে ভেস্তে না যায় সেজন্য তালেবান সরকারের নেতারা পাকিস্তান কিংবা তাদের পূর্ববর্তী কোনো বিমান হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলারও সিদ্ধান্ত নেন।
 
কিন্তু সেই নীরবতা চূড়ান্তভাবে ভেঙে গেছে। তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেছেন, তারা কুনারের ওপর হামলাকে ‘গুরুতর ও অমার্জনীয় যুদ্ধাপরাধ, নির্লজ্জ নৃশংসতা এবং একটি উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন। 
 
অর্থাৎ, নতুন করে পাকিস্তানের এ হামলায় ঝুঁকিতে পড়েছে চীনের মধ্যস্থতায় চলা শান্তি প্রক্রিয়া। আর আকস্মিক এ হামলায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে ছড়াতে পারে উত্তেজনা।


[টিবিএন৭১/আরএন]