রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ঘোষণা ইরানের

ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘অবিচ্ছেদ্য ও কৌশলগত’ হিসেবে অভিহিত করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতা তেহরান ও মস্কোর মধ্যেকার বন্ধুত্বের গভীরতা ও সহনশীলতাকে আরো জোরালোভাবে প্রমাণ করেছে। খবর ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির। 

মস্কোতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। 

এক্স-এ আরাঘচি লিখেছেন, “অঞ্চলটি যখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন রাশিয়ার সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।”

তিনি আরো বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলী আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের গভীরতা ও শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। আমাদের সম্পর্ক ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে আমরা রাশিয়ার সংহতির জন্য কৃতজ্ঞ এবং কূটনীতির প্রতি রাশিয়ার সমর্থনকে স্বাগত জানাই।”

আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে সোমবার (২৭ এপ্রিল) মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন আরাঘচি। বৈঠকটি খুবই ‘আন্তরিক ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে দুই পক্ষই নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানি জনগণের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানিরা বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করছে।” তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং দ্রুত শান্তি পুনরুদ্ধারে রাশিয়া প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধের সময় তেহরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এটি আরো শক্তিশালী হবে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে আরাঘচি মার্কিন লঙ্ঘণ এবং হুমকির মুখে কিছু দেশের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই ধরনের দ্বিমুখী নীতি পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলবে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবি, ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন, হুমকিমূলক বক্তব্য এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কূটনীতির অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।



[টিবিএন৭১/আরএন]