চেক জালিয়াতিসহ সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে

ভোলার মনপুরা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন কৃষ্ণ খরাতী চেক জালিয়াতি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে কর্মস্থলে দুই সপ্তাহ ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতসহ নানা রকম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবু মুছা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন গত দুই সপ্তাহ ধরে অফিস করছেন না। কোনো ধরনের পূর্বানুমোদিত ছুটি বা ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি বর্তমান কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি জেলা অফিসকে জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় উপজেলা পর্যায়ে অনেক কাজ আটকে আছে বলেও জানান ইউএনও।

জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার পিআইও দায়িত্বে থাকার সময় নলছিটির ব্যবসায়ী জাহিদের কাছ থেকে ভুয়া চেকের বিনিময়ে ৩০ লাখ টাকা ধার নেন বিজন কৃষ্ণ খরাতী। পরে ওই ব্যাংকে টাকা না পেয়ে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিআইও বিজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যবসায়ী জাহিদ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান জানান, শুধু আমার মক্কেল নয়, নলছিটি উপজেলার এই রকম অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বিজন। ২০২৪ সালে আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন।

এছাড়া বিজন নলছিটির শিবেশ্বর রায়, কায়কোবাদ ও মাইনুল ইসলাম নামে তিন ব্যক্তির চেক জালিয়াতি মামলার আসামি বলে জানান আজাদ রহমান।

সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ

নলছিটি উপজেলার পিআইও দায়িত্বে থাকার সময় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ৩০২টি ঘরের মধ্যে ১২৮ ঘরের টাকা বরাদ্দ পায় উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু পিআইও বিজন ১২৮টির মধ্যে ৫৫টি ঘর না করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের নজরে এলে ২০২৩ সালে বিজনকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা উপজেলা প্রশাসনের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিভাগীয় কমিশনার। উপজেলা প্রশাসনের একাউন্টে টাকা জমা দেন বিজন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মনপুরা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্বে যোগদান করেন বিজন কৃষ্ণ খরাতী। এরপর গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে মনপুরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন কৃষ্ণ খরাতীর মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করলেও বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি অফিসে অনুপস্থিত থাকায় অফিসে গিয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে এ বিষয়ে ইউএনও মো. আবু মুছা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতী গত দুই সপ্তাহ ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার তিনটি মোবাইল নাম্বার বন্ধ রয়েছে। তিনি না থাকায় উপজেলার অনেক কাজ আটকে আছে। 

তিনি আরও জানান, নলছিটি থেকে তার ব্যাপারে অনেকে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন। শুনেছি তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে। তিনি গ্রেফতার হলে তাকে বরখাস্ত করা হবে।



[টিবিএন৭১/আরএন]