তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে খুলনার ফুলতলায় মো. সাব্বির (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্বাধীন (১৮) ও নিরব (১৮) নামে দুই যুবক আহত হয়েছেন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দামোদর স্কুলের কাছে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সাব্বির দামোদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোস্তফা হোসেনের ছেলে। তিনি ডিস লাইন সংযোগের কাজ করতেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, হামলাকারীরা হতাহতদের বন্ধু। দুইদিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাব্বিরকে পেয়ে পেটে ছুরিকাঘাত করে তারা। এ সময় স্বাধীন ও নিরবকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয়রা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা স্বাধীন ও নিরবকে প্রথমে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহত সাব্বিরের বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সাব্বির। সন্ধ্যার একটু পরে বাড়ি ফিরে আসে। খাবার খেয়ে সাব্বির বাড়ির পাশের একটি দোকানে যায়। রাতে সাব্বিরের এক বন্ধু তাকে জানান, ছেলেকে ছুরি মেরেছে। খবর পেয়ে তিনি ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেয়ে জানতে পারেন, সেখান থেকে সাব্বিরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, সাব্বির মারা গেছে। সাব্বির স্থানীয় একটি ডিশ লাইন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত। আজও (বৃহস্পতিবার) সাব্বির সেখানে ডিউটি করেছে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, এক সপ্তাহ পূর্বে নিহত সাব্বিরের সঙ্গে মূল অভিযুক্ত সিজানের বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই বিরোধের জেরে ঘটনার দিন উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। পরবর্তীতে সাব্বির তার পরিচিত আরও দুইজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনলে অভিযুক্ত সিজান তার সহযোগীদের নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাব্বির গুরুতর আহত হন।
তিনি জানান, আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বির মারা যান। অপর দুইজন আহত বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্তসহ অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।”
[টিবিএন৭১/আরএন]